মাছ শিকারে আড়াআড়ি বাঁশের বাঁধ পদ্মায়

মাছ শিকারের জন্য ফরিদপুরের টেপুরা-ধুলাই চরের ত্রিমোহনা এলাকায় পদ্মা নদীতে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বাঁধ দিয়েছে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী।

বাঁশের এ বাঁধে (বাঁশের এ বেড়াকে স্থানীয়ভাবে বাঁধ বলা হয়) কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে মারা হচ্ছে জাটকা ইলিশসহ সব ধরনের মাছ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হলেও তারা বিষয়টির সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের দাবি, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন।

স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালী মহলটি প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এই অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে পদ্মা নদীতে বাঁশের বাঁধ দিয়ে কারেন্ট জালে মাছ শিকার করে আসছে।

এ বছরও একই চক্র প্রায় মাসখানেক ধরে তাদের এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জেলা শহর থেকে দূরে ও দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তারা নির্বিঘ্নি এ অবৈধ মাছ শিকার চালিয়ে আসছে।

পাবনা থেকে আসা মধু হালদারসহ অনেকেই বাইরে থেকে এখানে কাজ করেন।

মধু হালদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা পাবনা থেকে এসেছি। এই এলাকার বড় ভাইরা আমাদের এনেছে। আমরা মাছ ধরে দেই, বিনিময়ে আমাদের একটা অংশ দেয় তারা।”

স্থানীয় জেলে ইদ্রিস পাল জানান, সরকারি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় স্থানীয় নর্থচ্যানেল ও চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের লোকজন নির্বিচারে মৎস নিধন করে চলেছে।

তিনি জানান, এরা এসব মাছ এলাকার বাজারে বিক্রি না করে ট্রলারে পাটুরিয়া ঘাট, চরমইনুট বাজার, হাট কৃষ্ণপুরসহ বিভিন্ন দূরবর্তী হাট-বাজারে পাঠিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা তুহিন মন্ডল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, পদ্মায় কারা অন্যায়ভাবে মাছ শিকার করছেন, তা তার জানা নেই।

তিনি বলেন, “মাছ শিকারের বিষয়ে আমি কিংবা আমার পরিষদের কেউ জড়িত নন।”

নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মোস্তাকউজ্জামান বলেন, “আমি বিষয়টি শুনেছি, কিন্তু ওই জায়গাটি দুই জেলার সীমান্তবর্তী ও দুর্গম, তাই সেখানে যাওয়া হয়নি।”

তবে, তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অবিলম্বে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *